গতরাতে টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে দুই গোল করে নিন্দুকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন সিআর-সেভেন নামে পরিচিত পর্তুগিজ তারকা।
বিশ্বকাপে শুরুর ম্যাচে গোল পাননি বলে নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন, "রোনালদো কি এখন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় সমস্যা?"
গোল করার পর মাঠে রোনালদোর দিকে তাক করা এক টিভি ক্যামেরায় চোখ রেখে তিনি বলতে থাকেন, "আই অ্যাম ব্যাক! আই অ্যাম ব্যাক!"
শুরু থেকেই জীবন সহজ নয় এ মূহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার, নিজের নামকে একটি ব্র্যান্ডে রূপান্তর করা বিলিয়নিয়ার খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
সে কারণেই হয়ত তিনি যখন তার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে মাঠে নামেন সমালোচকেরা তাকে ছাড় দেননি মোটেও।
একসময় ম্যাকডোনাল্ডসের বাইরে বেঁচে যাওয়া বার্গারের জন্য অপেক্ষা করতেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু আজ তিনি একজন বিলিয়নিয়ার এবং এ গ্রহের সবচেয়ে পরিচিত মানুষদের একজন।
বিবিসির গুড, ব্যাড, বিলিয়নিয়ার পডকাস্টে সম্প্রতি তার জীবনের অসাধারণ উত্থানের ছয়টি ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়, সেটাই এই রিপোর্টে তুলে ধরা হলো --
অল্প দিয়েই শুরু করা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দোস সান্তোস আভেইরো ১৯৮৫ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের এক ছোট পর্তুগিজ দ্বীপ মাদেইরার এক শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
তার বাবা স্থানীয় এক ফুটবল ক্লাবের কিট ম্যানেজার এবং মালি হিসেবে কাজ করতেন। তার ছিল মদ্যপানের সমস্যা।
তার মা রাধুনী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
রোনালদোর শৈশব কেটেছে দুই রুমের এক ছোট্ট ফ্ল্যাটে, বাকি তিন ভাইবোনের সাথে একটি ঘরে থাকতে হয়েছে তাকে।
কিন্তু রোনালদো কখনোই একে কষ্ট বা দুর্দশা হিসেবে দেখেননি।
"আমরা (জীবনকে) এমনই জানতাম… এবং আমরা সুখেই ছিলাম।"
কিন্তু রোনালদো তার পরিধি আরও বাড়িয়েছেন, ৪১ বছর বয়সেও দারুণ ফর্মে চলতি বিশ্বকাপে খেলতে এসেছেন।
তবে মাঠে এবং মাঠের বাইরে সিআর-সেভেনের হিসাব নিখুঁত, প্রায় অব্যর্থ।
৩৭ বছর বয়সে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের সাথে চুক্তি তাকে বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার এনে দিয়েছিল।
সাথে রয়েছে বাণিজ্যিক চুক্তি ও বোনাস, যা ওই চুক্তিকে বিশ্ব ক্রীড়াজগতের অন্যতম লাভজনক চুক্তিতে পরিণত করে।
এদিকে, ততদিনে রোনালদো তার ক্যারিয়ারের উপার্জনে ইতোমধ্যেই এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার করে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, সৌদি ক্লাবের সেই দলবদল রোনালদোর সম্পদে কেবল আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ