ফুটবলের ইতিহাসে কাকতালীয় ঘটনা কিংবা ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে আলোচনা বেশ পুরোনো। বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীরা অতীতের ট্রফি জয়ী দলগুলোর সঙ্গে বর্তমানের নানা মিল খুঁজে বের করতে ভালোবাসেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে স্পেনের সমর্থকদের মধ্যে ঠিক এমনই এক রোমাঞ্চকর আলোচনা তুঙ্গে।
অনেকের মতেই, ২০১০ সালে স্পেনের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী অভিযানের সঙ্গে এবারের যাত্রার রয়েছে বেশ কিছু বিস্ময়কর ও হুবহু মিল! চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৭টি অবিশ্বাস্য কাকতালীয় মিল, যা স্প্যানিশ সমর্থকদের আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
১. উদ্বোধনী ম্যাচে একই প্রতিপক্ষ ও আবহ
সমর্থকদের আলোচনায় অন্যতম প্রধান বিষয় হলো উদ্বোধনী ম্যাচের অবিশ্বাস্য মিল। ২০১০ সালের বিশ্বমঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের আবহ আর এবারের আসরে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা চলছে। অনেকেই একে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
২. লা ফুয়েন্তের সেই 'গ্রুপ এইচ' (Group H)
২০১০ সালে স্পেন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল 'গ্রুপ এইচ' থেকে এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল। কাকতালীয়ভাবে, এবারও স্প্যানিশ আর্মিরা একই গ্রুপে স্থান পেয়েছে। ফুটবলীয় কুসংস্কারে বিশ্বাসী সমর্থকদের কাছে এটি অত্যন্ত শুভ একটি লক্ষণ!
৩. ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে পদার্পণ
২০১০ সালের বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্পেন ছিল ইউরোপের রাজা অর্থাৎ ইউরো চ্যাম্পিয়ন। ঠিক একইভাবে, এবারও ২০২৪ সালের ইউরো কাপের মুকুট মাথায় পরেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে স্প্যানিশরা। ইউরো জয়ের এই আত্মবিশ্বাস কি এবারও তাদের বিশ্বমঞ্চের শেষ হাসিতে সাহায্য করবে?
৪. জোসে মরিনিও ও রিয়াল মাদ্রিদ কানেকশন
২০১০ সালে বিশ্বফুটবলের অন্যতম আলোচিত কোচ জোসে মরিনিও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। এবারও ফুটবলাঙ্গনে মরিনিওকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা সমর্থকদের মনে ২০১০ সালের সেই পুরোনো সোনালী স্মৃতির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
৫. নকআউট পর্বে পর্তুগাল বাধা
নকআউট পর্বের সমীকরণ নিয়েও ফুটবলপ্রেমীরা এক দারুণ মিল খুঁজে পেয়েছেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের সেই ঐতিহাসিক জয় এবং এবারও একই দলের বিপক্ষে একই ব্যবধানে ম্যাচ জেতার বিষয়টি সবাইকে অবাক করেছে। একে অনেকেই এবারের আসরের সবচেয়ে বড় কাকতালীয় মিল বলে দাবি করছেন।
৬. বার্সেলোনা ব্লকের সেই চেনা শক্তি
২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্পেন দলের মূল শক্তি ছিল বার্সেলোনার একঝাঁক তারকা (যেমন- জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল)। এবারের ২০২৬ দলেও বার্সেলোনার একাধিক তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছেন। এই 'বার্সা ব্লক' কি পারবে আরও একবার স্পেনকে বিশ্বসেরা করতে?
৭. বিশ্বকাপে শাকিরার ম্যাজিক ও উপস্থিতি
২০১০ বিশ্বকাপের থিম সং 'Waka Waka' গেয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। কাকতালীয়ভাবে, এবারের বিশ্বকাপেও শাকিরার উপস্থিতি এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা সমর্থকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ ও নস্টালজিয়ার জন্ম দিয়েছে।
কাকতালীয় ঘটনা নাকি নতুন ইতিহাসের সূচনা?
অবশ্যই এই মিলগুলো মাঠে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি দেয় না। দিনশেষে ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্স, নিখুঁত কৌশল এবং ফুটবলারদের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের ওপর। তবে এই অবিশ্বাস্য মিলগুলো যে স্পেনের সমর্থকদের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
স্পেন কি পারবে ২০১০ সালের সেই গৌরবময় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে? নাকি এবার নতুন কোনো দল উঁচিয়ে ধরবে সোনালী ট্রফি? আপনার কী মনে হয়—কমেন্ট করে আমাদের জানান!
No comments:
Post a Comment