যে ১০ কারণে এবার বিশ্বকাপ জিততে পারেন রোনালদো

পর্তুগাল দল বিশ্বকাপের বিমান ধরেছে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে। লিসবনে সব প্রস্তুতি শেষ করে রবার্তো মার্তিনেজের দল যখন বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছে, তখন তাদের গায়ে ‘হেভিওয়েট’ তকমা। ৪১ বছরে এসে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে প্রথম ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর এবার তাঁর পাশে আছে এমন একঝাঁক তরুণ ও চটপটে ফুটবলার, যা তাঁর ক্যারিয়ারে আগে কখনো ঘটেনি।



​পর্তুগালের প্রথমবার বিশ্বজয়ের এই স্বপ্ন যে মোটেও অবাস্তব নয়, তা প্রমাণ করে এই ১০টি জোরালো কারণ:

​১. দারুণ ফুলব্যাক জুটি 🛡️

​পর্তুগালের রক্ষণের দুই পাশ আগলে রাখার দায়িত্বে থাকছেন নুনো মেন্দেস ও জোয়াও কানসেলো। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা এই ফুলব্যাক জুটি রক্ষণ সামলে গতি বাড়িয়ে ওপরে ওঠায় ও প্রতিপক্ষের উইং ভেঙে ঢুকে পড়ায় দারুণ দক্ষ। ব্যাকআপ হিসেবে দিয়োগো দালোত ও নেলসন সেমেদো জুটিও প্রস্তুত আছেন।

​২. উইংয়ে ছড়ানো রোমাঞ্চের বারুদ 🔥

​উইং দিয়ে আক্রমণের ঝড় তুলতে প্রস্তুত আছেন পেদ্রো নেতো, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স এবং ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাওয়ের মতো মহাতারকারা। মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে এবং গোল করা ও করানোর ক্ষেত্রে তাঁরা সমান পারদর্শী।

​৩. প্যারিসের রসায়ন বা ‘পিএসজি কানেকশন’ 🇫🇷🤝

​বিশ্বকাপ জেতার জন্য দলের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া জরুরি। ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে একসঙ্গে খেলছেন পর্তুগালের চার তারকা—ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, গনসালো রামোস এবং নুনো মেন্দেস। ২০১০ সালের স্পেন বা ২০১৪ সালের জার্মানির মতো এই ক্লাব রসায়নই হতে পারে পর্তুগালের মূল শক্তি।

​৪. মাঝমাঠের দুই জাদুকর: ভিতিনিয়া-নেভেস 🪄

​ইউরোপিয়ান ফুটবলে মাঝমাঠ শাসন করা ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস জুটি পর্তুগালের বড় ভরসা। নেভেস যখন নিখুঁত ছন্দে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন ভিতিনিয়ার দূরদর্শী পাসিং দলকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লিড।

​৫. গোলবারের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল 🧤

​কাগজে-কলমে রোনালদো বড় নাম হলেও দলের আসল ত্রাতা গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জাতীয় দলের জার্সিতে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর, যিনি ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ নেশনস লিগের ফাইনালে পেনাল্টি রুখে নিজের ঠান্ডা মাথার প্রমাণ দিয়েছেন।

​৬. এক অদৃশ্য যোদ্ধা এবং ওয়ান-ম্যান আর্মি 🕊️

​দিয়াগো জোতার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু ফুটবল-দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। পর্তুগাল তাদের স্কোয়াড সাজিয়েছে সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে ২৭ জনে, যার ২৭ নম্বর নামটি প্রয়াত দিয়োগো জোতা। জোতার সেই অপূর্ণ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন দলের মূল অনুপ্রেরণা।

​৭. এক পজিশন, বহু রূপ (ভার্সেটাইল স্কোয়াড) 🔄

​পর্তুগালের এবারের দলে এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা একাধিক পজিশনে সমান কার্যকর। যেমন বের্নার্দো সিলভা ডান উইংয়ের পাশাপাশি মাঝমাঠে প্লেমেকারের ভূমিকা নিতে পারেন। পেদ্রো নেতো বা জোয়াও ফেলিক্সও আক্রমণের যেকোনো প্রান্তে খেলতে অভ্যস্ত।

​৮. সুরকার ব্রুনো ফার্নান্দেজ 🎼

​পর্তুগাল দলের সুর আর ছন্দ পুরোটাই নির্ভর করছে ব্রুনো ফার্নান্দেজের ওপর। মাঝমাঠ আর আক্রমণের ভেতরের শূন্যতা পূরণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার অনন্য। কোচ মার্তিনেজের পুরো কৌশলই সাজানো হয়েছে ব্রুনোকে কেন্দ্র করে।

​৯. ডাগআউটে রবার্তো মার্তিনেজ 🧠

​বেলজিয়ামকে ট্রফি জেতাতে না পারলেও পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়ে মার্তিনেজ সফল। তাঁর অধীনে দল জিতেছে ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপা। সব ঠিক থাকলে প্রথম ‘বিদেশি’ কোচ হিসেবে তাঁর হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তেই পারে পর্তুগাল।

​১০. মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়: রোনালদোর শেষ বাজি 👑

​ক্যারিয়ারে হাজার গোলের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটাই শেষ সুযোগ। গত দুই দশকের মধ্যে কাগজে-কলমে এটাই পর্তুগালের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল। এই দলটিকে নিয়ে সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে রোনালদো তাঁর সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন। লিসবনের যুবরাজের শেষ বাজি সফল হলে ফুটবল ইতিহাস পাবে তার সবচেয়ে রোমান্টিক সমাপ্তি।