হাইতিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের স্বস্তির জয়: ভিনি-কুনিয়া চমকের পর ৪ গোল বাতিলের আফসোস!

 

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা চাপে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে সেই ধাক্কা সামলে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরল সেলেসাওরা। ‘সি’ গ্রুপের আন্ডারডগ ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮৭তম দল হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধের দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩ গোল এলেও, অফসাইডের খাঁড়ায় একাধিক গোল বাতিল না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত ব্রাজিলের।



​শুরুতে রাফিনিয়ার সুযোগ মিস ও চোটের ধাক্কা

​শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলে ব্রাজিল। শুরুর দিকেই সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। হাইতির ডিফেন্স চিরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও চিপ করতে গিয়ে বল পোস্টের অনেক বাইরে মারেন তিনি। এর কিছুক্ষণ আগেই তাঁর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল। দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি এই ফরোয়ার্ডের; প্রথমার্ধের মাঝপথেই চোটের শঙ্কায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, মাঠে নামেন তরুণ ফুটবলার রায়ান।

​কুনিয়ার জোড়া গোল ও ভিনির ম্যাজিক

​ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ অবশেষে আলোর মুখ দেখে ম্যাচের ২৩ মিনিটে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি জোরালো শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি মাতেউস কুনিয়া

​১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলের খেলার ধার আরও বেড়ে যায়। ৩৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একক দক্ষতায় বল নিয়ে এগিয়ে যান ভিনিসিয়াস, এরপর নিখুঁত এক পাস বাড়ান কুনিয়ার উদ্দেশ্যে। বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের চোখধাঁধানো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনিয়া।

​প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম তোলেন ম্যাচের আসল নায়ক ভিনি জুনিয়র। লুকাস পাকেতার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় হাইতি গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। আগের দুটি গোলের অ্যাসিস্ট করার পর এই গোলটি ছিল ভিনির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের যোগ্য পুরস্কার। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

​দ্বিতীয় অর্ধে হাইতির লড়াই ও অফসাইডের বাধা

​দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে হাইতি। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া তাদের একটি দারুণ শট প্রায় জালে ঢুকেই যাচ্ছিল, তবে একেবারে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে ব্রাজিলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো।

​এরপর ব্রাজিলের হয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি নামা বিস্ময়বালক এনদ্রিক। দারুণ এক ফিনিশে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও এনদ্রিকের একটি শট নিশ্চিত গোলের রূপ নিচ্ছিল, কিন্তু এবার গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে ব্যবধান বাড়তে দেয়নি হাইতির রক্ষণভাগ।

​ম্যাচের হাইলাইটস:

  • ফলাফল: ব্রাজিল ৩ - ০ হাইতি।
  • গোলদাতা: মাতেউস কুনিয়া (২৩', ৩৬'), ভিনিসিয়াস জুনিয়র (৪৫+').
  • ম্যাচের সেরা: ভিনিসিয়াস জুনিয়র (১টি গোল, ২টি অ্যাসিস্ট)।
  • ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: দানিলোর গোললাইন সেভ এবং এনদ্রিকের অফসাইড গোল।

​স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল সেলেসাওরা

​দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় প্রথমার্ধের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। মরক্কো ম্যাচের হতাশা ভুলে সেলেসাওদের এই আক্রমণাত্মক ফুটবল ফুটবলপ্রেমীদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। ৩-০ গোলের এই জয় কি ব্রাজিলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে দিল? আপনার কী মতামত, কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান!


  • বিশ্বকাপ ২০২৬, ব্রাজিল ফুটবল দল, হাইতি ফুটবল দল, ব্রাজিল বনাম হাইতি ৩-০, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া, কার্লো আনচেলত্তি, ম্যাচ রিপোর্ট