মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে সেই ধাক্কা যে সাময়িক ছিল, তা দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রমাণ করল সেলেসাওরা। ‘সি’ গ্রুপের আন্ডারডগ হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডরা।
শুরুতে সুযোগ হাতছাড়া ও রাফিনিয়ার চোট
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর থেকেই আক্রমণের পসরা সাজায় ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতেই সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। হাইতির রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল পোস্টের বাইরে মারেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছিল না রাফিনিয়ার, প্রথমার্ধের মাঝপথেই চোটের শঙ্কায় মাঠ ছাড়তে হয় এই তারকাকে। তাঁর বদলে মাঠে নামেন রায়ান।
মাতেউস কুনিয়ার জোড়া গোল
ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ অবশেষে আলোর মুখ দেখে ম্যাচের ২৩ মিনিটে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি জোড়া শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি মাতেউস কুনিয়া।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিলের খেলার ধার আরও বেড়ে যায়। ৩৬ মিনিটে আবারও মঞ্চে কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে একক দক্ষতায় বল নিয়ে এগিয়ে যান ভিনিসিয়াস, এরপর নিখুঁত এক পাস বাড়ান কুনিয়ার উদ্দেশ্যে। বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের চোখধাঁধানো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ভিনির ম্যাজিক
পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে ব্রাজিলের প্রতিটি আক্রমণের মূল কারিগর ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। আগের দুটি গোলের অ্যাসিস্ট করার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) গোলদাতার তালিকায় নিজের নামও তোলেন তিনি। লুকাস পাকেতার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় হাইতি গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ভিনি। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নীল বিষাক্ত ব্যাঙের আদলে ‘কিলার কিট’
আজকের ম্যাচে ব্রাজিলের খেলা যতটা নজর কেড়েছে, ততটাই আলোচনা চলছে তাদের জার্সি নিয়ে। চিরচেনা হলুদ জার্সি ছেড়ে এই ম্যাচে দল মাঠে নেমেছে নীল রঙের অ্যাওয়ে কিট পরে। আমাজনের বিখ্যাত ‘ব্লু পয়জন ডার্ট ফ্রগ’ বা নীল বিষাক্ত ব্যাঙের ত্বক ও সতর্কীকরণ রঙের আদলে তৈরি করা হয়েছে এই জার্সির নকশা। মাঠে ব্রাজিলের ভয়ঙ্কর রূপ ফুটিয়ে তুলতেই এই বিশেষ ডিজাইন, যা প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে শতভাগ ফুটিয়ে তুলেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
দ্বিতীয় অর্ধে কী অপেক্ষা করছে?
প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ও ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, দ্বিতীয় অর্ধে গোলের ব্যবধান আরও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মরক্কো ম্যাচের হতাশা ভুলে সেলেসাওরা যেভাবে স্বরূপে ফিরেছে, তা নিঃসন্দেহে বাকি দলগুলোর জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
