বাংলাদেশে ১৫০০ সিসি সেগমেন্টের প্রিমিয়াম ও জনপ্রিয় স্পোর্টস কমিউটার বাইকগুলোর মধ্যে Yamaha FZS Series সবসময়ই শীর্ষে অবস্থান করে আসছে। এবার ইয়ামাহা তাদের আধুনিক Hybrid Assist Technology যুক্ত করে বাজারে এনেছে Yamaha FZS Fi Hybrid। চমৎকার ডিজাইন, সেরা মাইলেজ এবং সর্বাধুনিক ফিচারের সমন্বয়ে এটি বর্তমানে বাইকারদের প্রথম পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
১. ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
বাইকটির মাসকুলার ফুয়েল ট্যাংক এবং শার্প হেডলাইট ক্লাস্টার একে একটি এগ্রেসিভ স্ট্রিটফাইটার লুক দেয়।
- স্পোর্টি লুক: এলইডি হেডলাইটের সাথে নতুন স্পোর্টি গ্রাফিক্স বাইকটিকে দেখতে বেশ প্রিমিয়াম করে তুলেছে।
- সিটিং পজিশন: রাইডার ও পিলিয়ন উভয়ের জন্যই কমফোর্টেবল সিঙ্গেল সিট অপশন দেওয়া হয়েছে, যা লং রাইড বা সিটির ট্রাফিকে বেশ আরামদায়ক।
- ওজন ও গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স: ১৩৮ কেজি কার্ব ওয়েটের কারণে বাইকটি রাইড করা বেশ সহজ এবং ১৬৫ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বাংলাদেশের রাস্তার জন্য উপযোগী।
২. ইঞ্জিন ও হাইব্রিড টেকনোলজি
বাইকিং জগতে ইয়ামাহার Blue Core Engine আগেই প্রশংসিত ছিল, তবে হাইব্রিড টেকনোলজির অন্তর্ভুক্তি পারফরম্যান্সকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
- ইঞ্জিন টাইপ: ১৪৯ সিসি, এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, SOHC, ২-ভ্যালভ
- সর্বোচ্চ পাওয়ার: ১২.২ BHP @ ৭২৫০ RPM
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১৩.৩ Nm @ ৫৫০০ RPM
- স্মার্ট মোটর জেনারেটর (SMG): এটি মূলত একটি ইলেকট্রিক মোটর অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম, যা থ্রোটল রেসপন্স ত্বরান্বিত করতে এবং স্টার্ট করার সময় বাইককে বাড়তি টর্ক প্রদান করতে সাহায্য করে।
৩. মাইলেজ ও পারফরম্যান্স
হাইব্রিড সিস্টেম এবং FI (Fuel Injection) প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কারণে বাইকটির ফুয়েল এফিশিয়েন্সি আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- সিটি মাইলেজ: প্রায় ৪৫-৪৮ কিমি/লিটার।
- হাইওয়ে মাইলেজ: প্রায় ৫০-৫২+ কিমি/লিটার।
- ফুয়েল ট্যাংক ক্যাবাসিটি: ১৩ লিটার।
৪. ব্রেকিং, সাসপেনশন ও চাকা
নিরাপত্তা ও রাইডিং স্টেবেলিটির ক্ষেত্রে ইয়ামাহা কখনোই আপস করে না।
- ব্রেকিং সিস্টেম: সামনে ২৮২ মিমি ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনে ২২০ মিমি ডিস্ক ব্রেক। নিরাপত্তায় রয়েছে Single Channel ABS।
- ট্র্যাকশন কন্ট্রোল (Traction Control System): ভেজা বা পিচ্ছিল রাস্তায় বাইকের চাকা স্কিড করা থেকে রক্ষা করে।
- সাসপেনশন: সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে ৭-স্টেপ এডজাস্টেবল মনোক্রস সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে।
- টায়ার: সামনে ১০০/৮০-১৭ এবং পেছনে ১৪০/৬০R১৭ সেকশনের টিউবলেস রেডিয়াল টায়ার দেওয়া হয়েছে, যা কর্নারিংয়ে দারুন গ্রিপ দেয়।
৫. স্পেসিফিকেশন সামারি
| ফিচার / পার্টস | তথ্য |
|---|---|
| ইঞ্জিন | ১৪৯ সিসি, সিঙ্গল সিলিন্ডার |
| সর্বোচ্চ পাওয়ার | ১২.২ BHP @ ৭২৫০ RPM |
| সর্বোচ্চ টর্ক | ১৩.৩ Nm @ ৫৫০০ RPM |
| ব্রেকিং | সিঙ্গেল চ্যানেল ABS সহ ডাবল ডিস্ক |
| গিয়ার | ৫-স্পিড ম্যানুয়াল |
| মিটার কনসোল | সম্পূর্ণ ডিজিটাল TFT ডিসপ্লে (Bluetooth যুক্ত) |
| অফিশিয়াল প্রাইস | ৳ ৩,৪৯,৫০০ |
বাইকটির ভালো ও মন্দ দিক
###Pros (পজিটিভ দিক)
- প্রিমিয়াম হাইব্রিড টেকনোলজি ও মসৃণ থ্রোটল রেসপন্স।
- অসাধারণ লুকস ও গ্রাফিক্স।
- সিঙ্গেল চ্যানেল ABS ও সেফটির জন্য ট্রাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম।
- অত্যন্ত আরামদায়ক সিটিং ও রাইডিং পজিশন।
- সিটিতে চমত্কার মাইলেজ।
###Cons (নেগেটিভ দিক)
- তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা বেশি।
- রেডি-পিকআপ বা টপ স্পিড প্রিয় রাইডারদের কাছে পাওয়ার কম মনে হতে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আপনি যদি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি স্টাইলিশ, টেকসই, কমফোর্টেবল এবং ফুয়েল-ইফিসিয়েন্ট স্পোর্টস কমিউটার বাইক খুঁজে থাকেন, তবে Yamaha FZS Fi Hybrid আপনার জন্য একটি পারফেক্ট চয়েস হতে পারে। প্রিমিয়াম রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স ও ভালো ব্র্যান্ড ভ্যালুর জন্য এই বাজেটে এটি অন্যতম সেরা বাইক।

0 মন্তব্যসমূহ