নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি, নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

 

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল শেষ ষোলোতেই। নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। আর এই হতাশাজনক পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র।

ম্যাচের ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। তবে তাঁর সেই গোল পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের এখানেই সমাপ্তি।

ম্যাচ শেষে ‘জিই টিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন,
“আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।”

ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ছাড়াও ফক্স স্পোর্টস, ইএসপিএন এবং ট্রিবুনাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নেইমারের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের খবর নিশ্চিত করেছে।

যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ

নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। কাকতালীয়ভাবে, ১৬ বছর পর ঠিক একই মাঠেই ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেললেন এই তারকা ফুটবলার। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সঙ্গে শেষ হলো তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক যাত্রাও।

ব্রাজিলের ইতিহাসে হতাশার অধ্যায়

নরওয়ের কাছে এই হার ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক হতাশার অধ্যায় যোগ করেছে। ১৯৯০ সালের পর এবারই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বাজে ফল করল সেলেসাওরা। পাশাপাশি ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারায় ২০৩০ সালে তাদের শিরোপা খরা ২৮ বছরে পৌঁছাবে, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।

নেইমারের নামের পাশে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

এই পরাজয়ের মাধ্যমে নেইমারের ক্যারিয়ারেও যুক্ত হলো একটি বেদনাদায়ক পরিসংখ্যান। তিনি সান্তোসের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিধারী দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, যিনি চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপার স্বাদ পাননি। এর আগে একই রেকর্ড গড়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা।

পরিসংখ্যানে কিংবদন্তি

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর একমাত্র বড় শিরোপা ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ। এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি, যদিও সেটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে।

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। তবু নেইমারের অসাধারণ দক্ষতা, নান্দনিক ফুটবল এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত তাঁকে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হিসেবে অমর করে রাখবে।

Leave a Reply