আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ হয়ে গেলেও এর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণই নেই। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মিসরের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই ম্যাচে আফ্রিকান দলটির সঙ্গে স্পষ্ট ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্ত
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই নকআউট ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। সবাই যখন মিসরের জয় দেখছিল, তখনই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পরপর ৩টি গোল করে ম্যাচটি তারা ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে, আর আসর থেকে বিদায় নেয় মিসর।
তবে ম্যাচের মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় ৫৮ মিনিটে। সে সময় মিসরের একটি গোল ফাউলের অজুহাতে বাতিল করে দেন রেফারি। ফুটবলপ্রেমী এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই গোলটি বৈধ ছিল এবং সেটি বাতিল না হলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
বাসের সেবা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিসরের প্রসঙ্গ টানলেন মেয়র মামদানি
গত বুধবার নিউইয়র্কের ভোটারদের সঙ্গে বাসের সেবা উন্নত করার একটি নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলাপ করছিলেন উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মেয়র জোহরান মামদানি। নাগরিকদের সময় বাঁচানোর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি রসিকতার ছলে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
মামদানি বলেন:
"আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসে আপনাদের যাতায়াতের সময় ২৪ ঘণ্টা কমে আসবে। আর এক বছর পূর্ণ হতে হতে আপনারা দুটির বেশি দিন বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন। এর মানে হলো, আপনারা পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা খাওয়ার সময় পাবেন, সন্তানের বেসবল ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার বাড়তি সময় পাবেন।"
তিনি আরও যোগ করেন:
"এর মানে হলো, বন্ধুদের আড্ডায় বসে এ বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাওয়া যে, গতকালের ম্যাচে মিসরকে সত্যিই 'ডাকাতি' করে হারানো হয়েছে।"
"বেঁচে যাওয়া সময়ে আমি মিসরের ওপর ডাকাতির রিপ্লে দেখব"
দ্রুতগতির বাসের কল্যাণে নিউইয়র্কবাসীদের প্রতিদিন যে ৬ মিনিট সময় বাঁচবে, তা দিয়ে মেয়র নিজে কী করবেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে রসিকতা ও ক্ষোভের মিশেলে মামদানি বলেন:
"বেঁচে যাওয়া ওই ছয় মিনিটে আমি সম্ভবত মিসরকে কীভাবে ডাকাতি করে হারানো হলো, সেই রিপ্লেগুলোই দেখব। বারবার দেখব।"
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি মজা করে বলেন, এখন কেবল মাঠের রেফারির মতো টিভির সামনে বসে চারকোনা ইশারা করাটাই বাকি আছে।
মেসির প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ মিসর কোচের
মেয়র মামদানির এই মন্তব্যের আগে মিসরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ফিফা ও রেফারির বিরুদ্ধে লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তিনি বলেন:
"হয়তো তারা চেয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল, মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।"
যদিও ফিফা ইতিমধ্যেই এই রেফারিং বিতর্ক নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে, তবে ফুটবল ভক্ত এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মাঝে এই ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ এখনো কাটেনি। আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও, মিসরের এই বিদায় ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবেই দাগ কেটে থাকবে।
আপনার কি মনে হয়? মিসরের গোলটি বাতিল করা কি আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে? কমেন্ট সেকশনে আপনার মতামত জানান!
Leave a Reply