বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম

 


ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই রোমাঞ্চ, উন্মাদনা আর নিত্যনতুন রেকর্ডের মেলা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন শুরু থেকেই একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে যা আগে কখনো ঘটেনি, এবার ঠিক সেটাই ঘটতে চলেছে। প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে নিজেদের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশের মাটিতে!

​হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। বিশ্বকাপের কোনো আয়োজক দেশ এর আগে কখনো টুর্নামেন্ট চলাকালীন অন্য দেশে গিয়ে ম্যাচ খেলেনি। এই ঐতিহাসিক ও অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। রোববার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে নকআউট পর্বের (রাউন্ড অব ৩২) প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডা।

​কেন এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি?

​সাধারণত বিশ্বকাপের সূচি নির্ধারণের সময় আয়োজক দেশগুলোকে নিজ নিজ গ্রুপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ধরে ছক তৈরি করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচিও সেভাবেই করা হয়েছিল।

  • ​নিয়ম অনুযায়ী, কানাডার গ্রুপ অর্থাৎ 'বি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি খেলার কথা কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে।
  • ​কিন্তু গ্রুপ পর্বের হিসেব-নিকেশ উল্টে দিয়ে 'বি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয় সুইজারল্যান্ড
  • ​ফলে গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ার সুবাদে কানাডাকে এখন ভ্যাঙ্কুভার ছেড়ে ম্যাচ খেলতে উড়াল দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। আর ভ্যাঙ্কুভারে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাচ্ছে সুইজারল্যান্ড।

​অতীতের ইতিহাস কী বলে?

​ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে একমাত্র ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি সব আসরেই আয়োজক ছিল একক কোনো দেশ। ফলে স্বাগতিক দেশ টুর্নামেন্টের যে পর্যায় পর্যন্তই যাক না কেন, তাদের প্রতিটি ম্যাচ নিজেদের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​এমনকি ২০০২ সালে যখন যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তখনও দুই আয়োজক দেশ তাদের সব ম্যাচ নিজেদের দেশের বিভিন্ন শহরেই খেলেছিল। ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন ম্যাচ খেলার জন্য কোনো আয়োজক দেশের পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার নজির এটিই প্রথম।

​কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ছিল অন্য দেশে যাওয়ার নিয়ম

​আসলে এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটটাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে, কানাডা ও মেক্সিকোর দেশের বাইরে খেলার সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল। কারণ সূচি অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

​অর্থাৎ, কানাডা বা মেক্সিকো যদি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতো, তবে তাদের এমনিতেও নিজেদের দেশ ছাড়তে হতো। কিন্তু গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ার কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই, রাউন্ড অব ৩২-তেই বিদেশের মাটিতে খেলার প্রথম অনন্য নজিরটি গড়ে ফেলল কানাডা।

​তিনটি ভিন্ন আয়োজক দেশ এবং রেকর্ড ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অনন্য। তার ওপর নকআউট পর্বের শুরুতেই কানাডার এই "বিদেশ সফর" বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, বিদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের এই ঐতিহাসিক যাত্রা কতদূর পর্যন্ত গড়ায়!

আপনার কি মনে হয়? ঘরের মাঠের সুবিধা ছাড়া কানাডা কি পারবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিতে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!

Leave a Reply