স্মার্টফোনের বাজারে প্রতি বছরই স্যামসাং তাদের 'আল্ট্রা' সিরিজ দিয়ে নতুন চমক দেখানোর চেষ্টা করে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাজারে আসা Samsung Galaxy S26 Ultra ফোনটি নিয়েও গ্যাজেট প্রেমীদের আগ্রহের শেষ ছিল না। চমৎকার নতুন ডিজাইন ট্রিম, অবিশ্বাস্য এআই ফিচার এবং সিকিউরিটি আপগ্রেড নিয়ে হাজির হয়েছে এই পাওয়ারহাউজ ডিভাইসটি। প্রায় ৩ মাস ব্যবহারের পর কেমন পারফর্ম করছে ফোনটি? আসলেই কি এটি আপনার কষ্টের টাকা দিয়ে কেনার যোগ্য? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত রিভিউতে।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে: এবার আরও স্লিম, সাথে নতুন 'প্রাইভেসি ফিল্টার'
ডিজাইনের দিক থেকে স্যামসাং এবার বেশ চতুর কিছু পরিবর্তন এনেছে। গত বছরের টাইটানিয়াম ফ্রেম থেকে সরে এসে এবার ব্যবহার করা হয়েছে প্রিমিয়াম Armor Aluminum 2 ফ্রেম। ফোনটির থিকনেস বা পুরুত্ব কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ৭.৯ মিমি (যা আগের চেয়ে পাতলা) এবং ওজন কমে দাঁড়িয়েছে ২১৪ গ্রামে। যার ফলে ফোনটি হাতে ধরলে বেশ আরামদায়ক ও হালকা ফিল দেয়।
পারফরম্যান্স: স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ এর রাজত্ব
ফোনটির হার্ট বা প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক ৩ ন্যানোমিটারের Qualcomm Snapdragon 8 Elite Gen 5 (for Galaxy) চিপসেট। মাল্টিটাস্কিং, হেভি গেমিং কিংবা হাই-রেজোলিউশন ভিডিও এডিটিং—সব কিছুই এই ফোনে পানির মতো স্মুথ চলে। অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এবং ওয়ান ইউআই ৮.৫ (One UI 8.5) চালিত এই ফোনে স্যামসাং ৭ বছরের মেজর ওএস এবং সিকিউরিটি আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর নতুন 'Nudge AI' ফিচারটি আপনার স্ক্রিনের অ্যাক্টিভিটির ওপর ভিত্তি করে নিজে থেকেই দরকারী পরামর্শ বা শর্টকাট তৈরি করে দেয়।
ক্যামেরা: ২০০ মেগাপিক্সেলের ডিএসএলআর টক্কর
ক্যামেরা স্পেক্স গত বছরের মতোই মনে হতে পারে, তবে ভেতরের লেন্সের অ্যাপারচার সাইজ বড় করায় এর লো-লাইট বা রাতের ফটোগ্রাফি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত। পেছনে রয়েছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ:
- ২০০ মেগাপিক্সেল মেইন ওয়াইড ক্যামেরা (f/1.4 অ্যাপারচার, যা অনেক বেশি আলো ক্যাপচার করে)
- ৫০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ টেলিফোটো (৫এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১০০এক্স এআই ডিজিটাল জুম)
- ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা
- ১০ মেগাপিক্সেল টেলিফোটো লেন্স (৩এক্স অপটিক্যাল জুম)
ভিডিওর ক্ষেত্রে এর নতুন Horizontal Lock ফিচারটি চমৎকার। আপনি ফোন যেভাবে ওলট-পালট করেই ভিডিও করুন না কেন, ফ্রেম সবসময় সোজা এবং স্ট্যাবল থাকবে। এছাড়া এটি দিয়ে ৮K ভিডিও ৩০ এফপিএসে এবং ৪K ভিডিও ১২০ এফপিএসে রেকর্ড করা সম্ভব।
ব্যাটারি ও চার্জিং স্পিড
ফোনটিতে রয়েছে একটি ৫০০০ এমএএইচ (mAh) ব্যাটারি। তবে সবচেয়ে ভালো খবর হলো, স্যামসাং অবশেষে তাদের ধীরগতির চার্জিং থেকে বের হয়ে এসেছে। এই ফোনে দেওয়া হয়েছে ৬০ ওয়াট (60W) ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট, যার মাধ্যমে মাত্র ৩৭ মিনিটে ফোনটি শূন্য থেকে ফুল চার্জ হয়ে যায়। নরমাল ব্যবহারে দেড় থেকে দুই দিন অনায়াসে ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
একনজরে স্পেসিফিকেশন (Specifications)
| ফিচার | বিবরণ |
|---|---|
| ডিসপ্লে | 6.9" QHD+ AMOLED 2X, 120Hz, Privacy Filter |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite Gen 5 (3 nm) |
| র্যাম ও স্টোরেজ | 12GB/256GB, 12GB/512GB, 16GB/1TB |
| পেছনের ক্যামেরা | 200MP + 50MP + 50MP + 10MP (8K Video) |
| ফ্রন্ট ক্যামেরা | 12MP Dual Pixel |
| ব্যাটারি ও চার্জ | 5000 mAh, 60W Wired, 25W Wireless |
| সুরক্ষা | Gorilla Armor 2, IP68 ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স |
👍 ভালো দিক (Pros)
- অসাধারণ প্রাইভেসি ডিসপ্লে মোড।
- ৬০ ওয়াটের আপগ্রেডেড সুপারফাস্ট চার্জিং।
- অবিশ্বাস্য স্পিড ও ল্যাগ-ফ্রি গেমিং পারফরম্যান্স।
- নাইটোগ্রাফি এবং জুম ক্যামেরার অসাধারণ আউটপুট।
- বিল্ট-ইন এস পেন (S Pen)।
👎 দুর্বল দিক (Cons)
- প্রাইভেসি ফিল্টারের কারণে ভিউইং অ্যাঙ্গেল কিছুটা কম মনে হতে পারে।
- বক্সে কোনো চার্জিং অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয় না।
- ডিজাইন দেখতে অনেকটাই গত বছরের মতো।
Samsung Galaxy S26 Ultra এর মূল্য (Price in Bangladesh)
বাংলাদেশে বিভিন্ন শপ এবং ভ্যারিয়েন্ট (অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল) ভেদে দামের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
১২ জিবি র্যাম / ৫১২ জিবি স্টোরেজ (অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ): প্রায় ৳২,২৮,৯৯৯
আমাদের শেষ মতামত
আপনি যদি ২০২৬ সালের সবচেয়ে পাওয়ারফুল, সেরা ক্যামেরা এবং উন্নত এআই ফিচার সমৃদ্ধ একটি অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রয়েড ফোন চান, তবে Samsung Galaxy S26 Ultra এই মুহূর্তের সেরা চয়েস। বিশেষ করে যারা প্রাইভেসি সচেতন এবং দুর্দান্ত ক্যামেরা ও ব্যাটারি লাইফ খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ইনভেস্টমেন্ট একদম সার্থক হবে।

Leave a Reply