জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ফাটল এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। গত শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেছেন শরিক দলের নেতারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এক হুঁশিয়ারি বক্তব্যে বলেন, "কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেললে, যে পথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেইপথে যাবেন তারেক রহমানও।"
১৫ বছরের ব্যর্থতা ও গণভোটের রায়
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বিগত ১৫ বছরে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার এবং নতুন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, আল্লামা সাঈদীকে ঘিরে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশের মানুষ ও যুবসমাজ রক্ত দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই রায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে অধিকার আদায়ে তারা আবারও রাজপথে নামবেন এবং যেকোনো কঠিন পথ অবলম্বনে কুণ্ঠিত হবেন না।
'জুলাই সনদ' ও বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব!
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যেও বিএনপির প্রতি ক্ষোভ ও দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়েছে। তা না হলে আমরা ১৮০টি সিট নিয়ে সংসদে যেতাম।"
তিনি আরও বলেন:
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশের স্বার্থে তারা নির্বাচনের এই ফল মেনে নিয়েছেন।
- রক্তাক্ত 'জুলাই সনদে' দেওয়া ওয়াদার কারণেই মানুষ ভোট দিয়েছিল।
- কিন্তু নির্বাচিত হয়ে এমপিরা জনগণের ভোটের মর্যাদা না দিয়ে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
এছাড়াও, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে নষ্ট করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন মাওলানা মামুনুল হক।
ব্যর্থতার কাঠগড়ায় নতুন সরকার ও বিএনপি
সমাবেশে বর্তমান সরকারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, গণহত্যার ব্যাপারে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর দেশের জন্য কী বয়ে এনেছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
শেষ কথা
ময়মনসিংহের এই সমাবেশ থেকে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের সহযোগী শক্তিগুলোর মধ্যেই এখন চরম মতবিরোধ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গণভোটের রায় কার্যকর করার এই দাবি আগামী দিনে দেশের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১১ দলের এই কঠোর অবস্থান এবং বিএনপির বিরুদ্ধে আনা 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর অভিযোগ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? কমেন্ট করে আমাদের জানান!

Leave a Reply