প্রথম ম্যাচে দারুণ জয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য অবশ্য কেবল নকআউট নয়, ট্রফি ধরে রাখা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে আলবিসেলেস্তেদের সামনে কোন দল আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
আজ অস্ট্রিয়া এবং পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার নকআউটের পথ কতটা মসৃণ হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ 'জে' (Group J) থেকে আর্জেন্টিনার শীর্ষ দল হওয়ার সমীকরণ এবং নকআউটে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা হতে পারে।
আর্জেন্টিনা কীভাবে গ্রুপ সেরা হতে পারে?
আর্জেন্টিনার সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণটি বেশ সহজ, তবে কিছুটা জটিলতাও আছে:
- সরাসরি চ্যাম্পিয়ন: আজ অস্ট্রিয়া এবং পরের ম্যাচে জর্ডানকে হারাতে পারলে কোনো হিসেব ছাড়াই আর্জেন্টিনা গ্রুপ সেরা হিসেবে পরের পর্বে যাবে।
- অন্যান্য সমীকরণ: কোনো একটি ম্যাচে পয়েন্ট হারালেও আর্জেন্টিনার গ্রুপ সেরা হওয়া সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে লিওনেল মেসিদের।
গ্রুপ সেরা বনাম গ্রুপ রানার্সআপ: প্রতিপক্ষ যখন স্পেন বা উরুগুয়ে
আর্জেন্টিনা গ্রুপে কোন অবস্থানে শেষ করছে, তার ওপর নির্ভর করছে শেষ ৩২-এর ভাগ্য:
- আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে: তাদের মুখোমুখি হতে হবে এইচ গ্রুপের (Group H) দ্বিতীয় সেরা (রানার্সআপ) দলের। বর্তমানে এই গ্রুপে শীর্ষে আছে স্পেন এবং গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দুই নম্বরে আছে উরুগুয়ে।
- আর্জেন্টিনা গ্রুপ রানার্সআপ হলে: যদি আর্জেন্টিনা কোনো কারণে গ্রুপের দুই নম্বর দল হয় এবং স্পেন 'এইচ' গ্রুপের শীর্ষে থাকে, তবে শেষ ৩২-এই ফুটবল বিশ্ব দেখতে পাবে এক মহাদ্বৈরথ—আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন!
- আর্জেন্টিনা তৃতীয় হলে: কোনো অঘটন ঘটে যদি মেসিরা গ্রুপে তৃতীয় হন, তবে তাদের মুখোমুখি হতে হবে গ্রুপ ডি, জি, এল, বি অথবা কে-এর যেকোনো একটির চ্যাম্পিয়ন দলের।
আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে প্রতিপক্ষ নির্ধারণের জটিল জ্যামিতি
'এইচ' গ্রুপে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি (২৭ জুন: স্পেন বনাম উরুগুয়ে এবং সৌদি আরব বনাম কেপ ভার্দে)। এই ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। নিচে সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো দেওয়া হলো:
১. উরুগুয়ের জয় এবং কেপ ভার্দের ড্র বা হার
এই সমীকরণে স্পেন চলে যাবে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
২. উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয়েই জিতলে
সে ক্ষেত্রে এই দুই দলের মধ্যে যার গোল ব্যবধান খারাপ হবে, তারা হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ (বর্তমানে দুই দলেরই গোল ব্যবধান শূন্য)। যদি গোল ব্যবধানও সমান থাকে, তবে দেখা হবে কে কম গোল দিয়েছে। সেটিও টাই হলে বিবেচনা করা হবে ফেয়ার প্লে টেবিল (যেখানে উরুগুয়ে একটি হলুদ কার্ড কম খেয়ে বর্তমানে এগিয়ে)।
৩. দুটি ম্যাচই ড্র হলে
ওপরের ফেয়ার প্লে বা গোল ব্যবধানের নিয়ম অনুযায়ীই প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। তবে সে ক্ষেত্রে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে প্রথম স্থানের বদলে লড়বে দ্বিতীয় স্থানের জন্য।
৪. কেপ ভার্দে ৪ গোল বা তার কম ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে
এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে কেপ ভার্দে। তবে কেপ ভার্দে ঠিক ৪ গোলের ব্যবধানে জিতলে গোলসংখ্যা বা ফেয়ার প্লে পয়েন্টের ভিত্তিতে স্পেনের সঙ্গে তাদের শীর্ষস্থান নিয়ে টাইব্রেকিং হিসাব হবে।
৫. কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করলে
এ ক্ষেত্রে রানার্সআপ হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে পড়বে পরাশক্তি স্পেন।
৬. উরুগুয়ে না জিতে যদি সৌদি আরব জিতে যায়
সব হিসাব উল্টে দিয়ে যদি সৌদি আরব জয় পায়, তবে নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সৌদি আরব।
এক নজরে এবারের 'অলিম্পিক পদ্ধতি'র টাইব্রেকার
এবারের টুর্নামেন্টে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে, কোন দল এগিয়ে থাকবে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে অলিম্পিক পদ্ধতিতে। পর্যায়ক্রমে নিচের ৮টি নিয়ম অনুসরণ করা হবে:
|
ক্রমিক |
টাইব্রেকার নিয়ম (Priority Basis) |
|---|---|
|
১ |
হেড-টু-হেড ম্যাচ: সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। |
|
২ |
হেড-টু-হেড গোল ব্যবধান: নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে গোল ব্যবধান। |
|
৩ |
হেড-টু-হেড গোলসংখ্যা: নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে দেওয়া গোলসংখ্যা। |
|
৪ |
সামগ্রিক গোল ব্যবধান: গ্রুপের সব কটি ম্যাচ মিলিয়ে মোট গোল ব্যবধান। |
|
৫ |
গ্রুপে মোট করা গোলসংখ্যা: পুরো গ্রুপ পর্বে দেওয়া মোট গোল। |
|
৬ |
কম লাল কার্ড: যে দল পুরো টুর্নামেন্টে কম লাল কার্ড পেয়েছে। |
|
৭ |
কম হলুদ কার্ড: যে দল কম হলুদ কার্ড পেয়েছে। |
|
৮ |
ফিফা র্যাঙ্কিং: সবশেষে দেখা হবে অফিশিয়াল ফিফা র্যাঙ্কিং। |
আর্জেন্টিনার সামনে সমীকরণ যেমনই হোক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মূল লক্ষ্য প্রতিপক্ষ কে সেটা ভাবা নয়, বরং নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়া। তবে সমর্থক হিসেবে শেষ ৩২-এ স্পেন বা উরুগুয়ের মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চটা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না!
আপনার কী মনে হয়? নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে দেখতে চান? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান!

Leave a Reply