অকালপক্বতা ও ক্যাডার হওয়ার মিশন: চার বন্ধুর রোমাঞ্চকর ঢাকা অভিযান! 🚌🎒

 

ছেলেবেলাটা আমার ছিল একটু অন্য রকম। হ্যাঁ, সবাই হয়তো বলবেন যে, তাদের শৈশবটাও অসাধারণ ছিল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমারটার সাথে কোনোভাবেই অন্যদের মিলবে না। কেউ বলতেই পারেন—"আমারটাও তো কারো সাথে মিলবে না"। সেটা ঠিক আছে, কিন্তু আমারটা সত্যিই সবার থেকে আলাদা। প্রমাণ চান? ঠিক আছে, তাহলে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য রোমাঞ্চকর ঘটনা থেকে একটা গল্প শোনাই। 😉




​🎯 মিশন গাবতলী: অদ্ভুত আইডিয়া ও প্রস্তুতি

​তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি, সালটা ছিল ২০০০। দুষ্টুমির এমন কোনোটা নেই যা আমার দ্বারা হয়নি। তবে এগুলোকে ঠিক দুষ্টুমি বলা যায় না, বলতে হবে অকালপক্বতা! বড়দের কাজগুলো করতে খুব ভালো লাগতো। আর আমি যা ভাবতাম, তা-ই করতাম। যার মাশুল সারা জীবন দিয়েছি, হয়তো এখনো দিচ্ছি।

​সেভেনে পড়ার সময় আমি এবং আমার কিছু বন্ধু মিলে একটা প্ল্যান করি। প্ল্যানটা হলো—আমরা বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব এবং আর কখনো ফিরব না! 🚫🏠 আমার বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা প্রপারে। আর আমার সাথে যারা ছিল, তারাও ওখানকারই। তারা হলো—সালমান (টিম লিডার), সোহেল, এবং রিওন।

​অবশেষে টিম লিডারের ডাকে একটা গোপন মিটিং হলো। সেখানে মিশনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হলো। মিটিংয়ের ফলাফল:

  • ​📍 গন্তব্য: ঢাকা।
  • ​👑 লক্ষ্য: ওখানে গিয়ে 'ক্যাডার' বা 'টপ টেরর' হতে হবে!

​অদ্ভুত আইডিয়া! তো এটা কীভাবে সম্ভব? একজন প্রশ্ন করতেই টিম লিডার গম্ভীর মুখে বলল—

​"অতি সাধারণ কর্ম। ওখানে গিয়ে মাস্তানি করতে হবে। এতে পুলিশের পাল্লায় পড়ে সোজা শ্বশুরবাড়ি (আই মিন জেল) যেতে হবে। তারপর কোনো গডফাদার আমাদের উদ্ধার করে তাঁর ডান হাত বানিয়ে নেবে। আর এভাবেই আমরা হয়ে উঠবো সফল ক্যাডার!" 😎


(বুঝতেই পারছেন, ছোটবেলার মস্তিষ্ক সিনেমায় যা দেখে, তা-ই সত্যি মনে করে!)

​সুতরাং, প্ল্যান পাস হলো। এবার লিডার বলল—"তোমরা বাড়িতে যাও এবং যে যেখানে পারো টাকা ম্যানেজ করো। বাপের পাঞ্জাবির পকেট, তোশকের নিচে—যেখানে যা পাও নিয়ে রাত আটটার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হও।"

​💸 পাঞ্জাবির পকেট ও চুপিচুপি 'পগার পার'

​ঐ সময়ে আমরা চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে ছিলাম। তোশকের নিচে, ড্রয়ারে কোথাও একটা টাকাও পেলাম না। রাতে খেয়ে নেওয়ার পর বাবা বাসায় এলেন। তিনি পাঞ্জাবিটা খুলে ফ্রেশ হতে যেতেই আমি সুযোগ বুঝে পকেটে হাতড়ালাম। ভাগ্য সুপ্রসন্ন! দেখি অনেক টাকা। খুশিতে বাকবাকুম হয়ে টাকাটা পকেটে পুরলাম, কত টাকা আছে তা দেখারও সময় পাইনি। এরপরই ব্যাগ গুছিয়ে চুপিচুপি বাসা ত্যাগ করলাম। আই মিন—পগার পার! 🏃‍♂️💨

​বাস স্ট্যান্ডের এক কোণে দাঁড়িয়ে গোল্ড স্টার সিগারেট টানছি (ঐ আমলে ওটাই ছিল ব্র্যান্ডের মাল!🚬), ইতিমধ্যে বাকিরা চলে এলো। মিঠাপুকুর থেকে চারজন একসাথে ঢাকার বাসে উঠলে পরিচিত লোকজন সন্দেহ করবে। তাই টিম লিডারের বুদ্ধিতে আমরা ভ্যান ভাড়া করে পরের স্টেশন **'শঠিবাড়ি'**র উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

​😮 মাথায় হাত! মাত্র একশত সত্তুর টাকা?

​শঠিবাড়িতে নেমে খুব আয়েশ করে একটা সিগারেট ধরানোর পর লিডার বলল—"প্রথম পর্বের কাজ শেষ। এবার বল কে কত টাকা আনতে পারলি?"

​আমি পকেট থেকে টাকা বের করে গুনতে গিয়ে দেখি—উপরে একটা ১০ টাকার নোট, আর নিচে সব ছোট নোট। গুনে দেখি মাত্র পঞ্চান্ন কি ষাট টাকা! 🤦‍♂️ আমার তো মাথায় হাত! ভেবেছিলাম দুই-আড়াইশ হবে। লজ্জা সিক্ত মাথায় টাকাটা লিডারের হাতে দিলাম। লিডার তো আকাশ থেকে পড়ল!

​বাকিদের জিজ্ঞেস করতেই সোহেল ও রিওন মাথা নিচু করে জানাল, তারা কোনো টাকাই আনতে পারেনি! লিডার আর আমি দুজনেই "থ"! মিশন ক্যানসেলের উপক্রম। কিন্তু আমরা ঠিক করলাম—যেকোনো মূল্যে ঢাকা যাবই। সবার টাকা মিলিয়ে মোট জমা হলো মাত্র ১৭০ টাকা! এই টাকা নিয়ে চারজন কীভাবে ঢাকা যাব?

​যাই হোক, 'জাকের' (সম্ভবত) নামের একটা মফিজ গাড়িতে উঠে পড়লাম। শুরু হলো আমাদের আসল অভিযান! 🚌✨

​🌤️ বাসের ভেতরের কাণ্ডকারখানা

​বোরিং পড়াশোনা, বাবা-মায়ের কড়া শাসন থেকে মুক্ত হয়ে মনে হচ্ছিল আমরা মুক্ত বিহঙ্গ! কিন্তু কন্ট্রাক্টর আসতেই ছন্দপতন।

  • কন্ট্রাক্টর: এই তোরা কই যাবি?
  • আমরা: জী, ঢাকা যাব।
  • কন্ট্রাক্টর: ভাড়া দে।
  • (লিডার ৭০ টাকা রেখে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিল)
  • কন্ট্রাক্টর: এইখানে তো মাত্র একশ টাকা! মগের মুল্লুক পাইছস নাকি? বাকি টাকা বাইর কর, না হলে নামায় দিব! 😡

​অবশ্য শেষ পর্যন্ত আমাদের নামিয়ে দেয়নি। একপর্যায়ে বগুড়ায় কিছু যাত্রী নেমে গেলে ড্রাইভার আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে নিলেন। আমি ওনাকে একটা বানিয়ে বানিয়ে গল্প বললাম। উনি আমাদের এতটাই আপন করে নিলেন যে, মাঝপথে নিজের খরচে খাবার পর্যন্ত খাওয়ালেন!

​🏙️ ঢাকা আগমন ও 'সুপারম্যান'দের গল্প

​ভোরের আজানের পর বাস আমাদের গাবতলীতে নামিয়ে দিল। ড্রাইভার সাহেবকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমরা মিরপুর রোড ধরে হাঁটতে লাগলাম। জীবনে প্রথম ঢাকা দেখা—বড় বড় দালান, প্রশস্ত রাস্তা দেখে আমরা তো অবাক! 😍

​হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, বাকি তিনজন তাদের ব্যাগ থেকে লুঙ্গি বের করে পেছনে সুপারম্যানের মতো করে বেঁধে নিয়েছে!

  • আমি: ব্যাপার কী রে? 🤔
  • একজন: আজ থেকে তো আমরা সুপারম্যান, তাই লুকটা এরকম করলাম! 🦸‍♂️

​এসব নিয়ে হাসাহাসি করছি, এমন সময় একটা পুলিশের পিকআপ এসে থামল।

"এই খাঁড়া!" —পুলিশের ধমক শুনে আমরা একদম 'স্ট্যাচু অব লিবার্টি' হয়ে গেলাম!

​ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেলেও মনের ভেতর একটা চোর-চোর আনন্দ হচ্ছিল—"যাক, ক্যাডার হওয়ার সুযোগ এসে গেছে, এবার সোজা জেল!" কিন্তু এস.আই আমাদের সার্চ করে কিছু না পেয়ে চলে যেতে বলল। আমাদের আর থানায় নেওয়া হলো না।

​🏛️ সংসদ ভবন ও সুন্দরীদের 'জগিং'

​ক্লান্তি দূর করতে আমরা ৮ নম্বর বাসে করে শ্যামলী থেকে আসাদগেট হয়ে সোজা সংসদ ভবনের সামনে এলাম। তখন মাঠ উন্মুক্ত ছিল। মাঠে গিয়ে দেখি কিছু ছেলে-মেয়ে টাইট পোশাক পরে লম্ফঝম্ফ করছে। অকালপক্ব চোখ নিয়ে মেয়েদের বডি ফিগার দেখছিলাম। 😉

  • আমি: এতো সকালে এরা কী করছে রে?
  • লিডার (গম্ভীর মুখে): এটাকে ইংলিশে বলে 'জগিং'। 🏃‍♀️

​জগিং দেখার নেশায় আরেকটু কাছে যেতেই একটা অতিকায় স্বাস্থ্যবান কুকুর "ঘেউ ঘেউ" করে তাড়া করল! ভাগ্যিস ওটা চেইনে বাঁধা ছিল, নয়তো সেদিনই আমাদের সুন্দরী দেখার শখ মিটে যেত! এরপর আমরা মাঠের ভেজা ঘাসের ওপর লুঙ্গি বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে কখন যে এক স্বর্গীয় ঘুমে তলিয়ে গেলাম, টের পাইনি। 😴

​🏠 এদিকে বাড়িতে কী হচ্ছিল?

বাবা সকালে হোটেলে নাস্তা করে বিল দিতে গিয়ে দেখেন পকেটে টাকা নেই! তখনই বুঝতে পারলেন ছেলে টাকা হাওয়া করে দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, চার মূর্তিমান খ্যাপা লাগেজসহ গায়েব! তবে পরিবার ভাবল—ক্ষুধা লাগলে ঠিকই ফিরে আসবে! (এই অংশটুকু পরে জানা)।


​👮‍♂️ স্বপ্নের ইতি ও বাস্তবতার ধাক্কা

​"স্যার ওঠেন, আপনার চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে..." —এমন একটা রাজকীয় স্বপ্ন দেখছিলাম। হঠাৎ পিঠে দু-একটা চড়-থাপ্পড় পড়ল! চোখ মেলে দেখি এক কনস্টেবল শাসাচ্ছে—"এই ওঠ, ওঠ বলছি! এইহানে ঘুমানি বাইর করতাছি!" 👮‍♂️💢

​পুলিশটা বিড়বিড় করছিল—"যত্ত সব টোকাই মোকাউ দিয়া দেশটা ভইরা গেল!" অপমান গায়ে না মেখে আমরা ওখান থেকে কেটে পড়লাম। এরপর সদ্য হিট হওয়া বিপ্লবের সেই গানটি গাইতে গাইতে আমরা চারজন হাঁটতে লাগলাম:

​🎵 "আমি এক যাযাবর / আমার নাই ঠিকানা ঘর..."


​তখন সকাল সাড়ে ৯টা। পেটে চরম ক্ষুধা। একটা সস্তা হোটেলে গিয়ে ৩০ টাকা বিল করে ডাল-ভাজি আর পরোটা খেলাম।

​🍳 ক্যাডার থেকে হোটেলের বয়?

​লিডারের এক ফুফাতো ভাই আদাবরে থাকত, যে নাকি একটু ক্যাডার টাইপের। অনেক খুঁজে তাকে বের করা হলো। সে আমাদের একটা টিনশেড রুমে রেখে বিকেলে এসে বলল:

​"এইডা ঢাকা শহর, চাইলেই গুন্ডামি করা যায় না। তোগোরে হোটেলের কামে লাগায় দেই। কয়দিন হাড়ি-পাতিল আর টেবিল মোছ, তারপর ব্যবস্থা করুম।" 🧽🍽️


​এই শুনে আমাদের ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন এক নিমেষেই খতম! হোটেলের কাজ করার ভয়ে আমরা আর ঐ টিনশেড বাড়িতে ফিরলাম না। হাঁটতে হাঁটতে কল্যাণপুরের দিকে চলে এলাম। পকেটে আর একটা কানা কড়িও নেই।

​বিকেলে গাবতলীতে যখন বিরিয়ানির সুবাস নাকে আসছিল, তখন লিডার তার মানিব্যাগের এক চিপা থেকে অলৌকিকভাবে একটা ৫০ টাকার নোট বের করল! 🤩 ২৫ টাকা করে দুই প্লেট হাফ-রাইস নিয়ে আমরা চারজন শেয়ার করে খেলাম। ওটা যেন অমৃত ছিল! 🍲

​🚌 ঘড়ি বিক্রি ও বাসের ছাদে রোমাঞ্চ

​এবার ঘটল লাইফের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনা। বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত হলো। কিন্তু টাকা ছাড়া কীভাবে যাব? আমরা চলন্ত বাসের পিছনের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে পড়ার প্ল্যান করলাম। গোধূলিলগ্নে একটা বাসের ছাদে চড়ে বসলাম।

​কিছুক্ষণ পর বাসের হেলপার ছাদে ভাড়া নিতে এলে লিডার তার সাধের অরিজিনাল কেসিও (Casio) হাতঘড়িটা খুলে হেলপারের হাতে দিয়ে দিল। লিডারের এই ত্যাগ দেখে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। ঘড়িটা পেয়ে হেলপার শান্ত হলো এবং আমাদের আরও ১০ টাকা পকেট খরচ দিল! ⌚❤️

​বাসের ছাদে প্রবল বাতাসে হাওয়া খেতে খেতে আমরা শুয়ে পড়লাম এবং ঘুমিয়ে গেলাম।

​✨ যমুনা সেতুর ওপর তারার মেলা

​কার যেন ডাকে ঘুম ভাঙল। চোখ খুলেই যা দেখলাম, তা সারা জীবন মনে রাখার মতো এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা! ✨🌉


আমরা তখন যমুনা ব্রিজের ওপরে। নিচে নদীভরা স্বচ্ছ পানি, আর আকাশে মেঘহীন তারার মেলা! কোটি কোটি তারা যেন আলোর প্রতিযোগিতা করছে। সপ্তর্ষি মণ্ডলটাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। তারা দেখার যে একটা নেশা আছে, সেদিনই প্রথম বুঝতে পারলাম। 🌌

​🧗‍♂️ চলন্ত বাসের সিঁড়িতে ঝুলে মিশন 'মহাস্থানগড়'

​বগুড়া স্টেশনে এসে হেলপার জানাল এটাই লাস্ট স্টপেজ। আমাদের রংপুর যাওয়ার কথা বলে ধোঁকা দেওয়া হয়েছিল। আমরা আবার বিপদে পড়লাম। রাত তখন ১১টা। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে চা-সিগারেট খেয়ে একটা নতুন বুদ্ধি বের করলাম।

​ঢাকা-রংপুরের কোচগুলো যখন যাত্রী নামিয়ে আবার ছাড়ছিল, আমরা ওত পেতে থেকে চলন্ত বাসের পিছনের সিঁড়ি ধরে ঝুলে পড়লাম! 🚌🧗‍♂️ ড্রাইভার যেন ব্যাক মিররে দেখতে না পায়, তাই ছাড়ে না উঠে সিঁড়িতেই ঝুলে রইলাম। এভাবেই মহাস্থানগড় পর্যন্ত চলে এলাম। কিন্তু সেখানে এক লোক "তোরা কেরে?" বলে চিৎকার করতেই আমরা লাফ দিয়ে পগার পার! 🏃‍♂️

​🚛 পাথরের ট্রাকে শেষ যাত্রা

​ক্ষুধায় রিওনের বিড়ির নেশা উঠল। সে এক পান দোকানদারকে গিয়ে বলল—"ভাই একটা বিড়ি দেন না।"

দোকানদার খেঁকিয়ে উঠল—"বিড়ি কি তোর বাপে অ্যাটেকোনা আসি মোক দিয়া যায়? যা ভাগ!" 🤬

​অপমানে রিওনের মুখটা ছোট হয়ে গেল। ঠিক তখন দেখি একটা পাথরের ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ড্রাইভার-হেলপার আসতেই আমরা চুপিচুপি ট্রাকের ওপরে উঠে পাথরের ওপর বিছানো শক্ত কার্পেটের ওপর শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীরে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম জানি না। 🚚💤

​🏡 পীরগঞ্জে আপার হাতের 'অমৃত' আলুভর্তা

​যখন ঘুম ভাঙল, আমরা তখন পীরগঞ্জের 'ধাপ' এলাকায়। গভীর রাত, চারপাশ জনমানবহীন। হেঁটে হেঁটে প্রায় আধা মাইল পর একটা মুদি দোকান পেলাম। দোকানদার এত রাতে আমাদের দেখে ভয় পেয়ে ক্যাশ বাক্সে তালা মারছিল। পরে আমাদের গল্প শুনে সে সহমর্মিতা দেখাল এবং চা-বিস্কুট খাওয়াল। ☕🍪

​সেখান থেকে পীরগঞ্জে লিডারের বোনের বাসা। সোহেল আর রিওন পায়ে ব্যথার অজুহাতে আর হাঁটতে চাইল না। আমি আর লিডার ওদের ওখানেই রেখে হাঁটা শুরু করলাম। প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটার পর বাস স্ট্যান্ড পার হয়ে লিডারের বোনের বাসায় পৌঁছালাম। সেখানে একঝাঁক কুকুরের তাড়া খেয়ে লিডারের চিৎকারে আপা এসে আমাদের উদ্ধার করলেন। 🐕🐾

​দুলাভাই বাড়িতে ছিলেন না। আপা আমাদের অবস্থা দেখে ঘরে নিয়ে গিয়ে টেবিলে খাবার দিলেন—আলু ভর্তা, ডিম ভাজি আর এক বোল ভাত। ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো সেই ভাত যে কোন দিক দিয়ে নিমেষেই শেষ হয়ে গেল, আমরা নিজেরাও বুঝলাম না! 🍳🍚

​পরদিন সকালে দুলাভাই বাজার থেকে মাছ-মাংস এনে এলাহী আয়োজন করলেন। তৃপ্তিভরে খেয়ে, আপার কাছ থেকে ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা নিয়ে আমরা বাসে উঠলাম। এবারই প্রথম আমরা কন্ট্রাক্টরকে টাকা দিয়ে বুক ফুলিয়ে টিকিট কাটলাম! 🎟️😎

​🏁 শেষ কথা

​ঘণ্টাখানিকের মধ্যে আমরা মিঠাপুকুরে নিজেদের এলাকায় ঢুকে পড়লাম। মনে তখন একটাই চিন্তা—বাকি দুটোর কী হলো? পরে জানতে পারলাম, সোহেল ও রিওন ভোর পর্যন্ত ঐ মুদি দোকানেই বসে ছিল। দয়ালু দোকানদার তাদের ফ্রিতে চা-সিগারেট খাইয়ে ভোরে পত্রিকার গাড়িতে তুলে দিয়েছিল এবং তারা অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছিল। 📰🚌

​এভাবেই শেষ হলো আমাদের ক্যাডার হওয়ার রোমাঞ্চকর ও অকালপক্ব "ঢাকা মিশন"!

🎉 সমাপ্ত 🎉


মূল গল্পকাহিনী : মুজাহিদুল ইসলাম

Leave a Reply