সমাজের নিষ্ঠুরতা যেন দিন দিন সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এবার এক নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ দিন পর মারিয়ামিম (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে চরম ক্ষোভ ও শোকের মাতম।
ঘটনার পটভূমি: যেভাবে নিখোঁজ হয় মারিয়ামিম
নিহত মারিয়ামিম উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে ছিল。 সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল。
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন আগে হঠাৎ করেই নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মারিয়ামিম。 মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন。 কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দিনেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি。
কবরস্থানে মিলল দ্বিখণ্ডিত মরদেহ
রবিবার বিকেলে উপজেলার জার্মিতা চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানে একটি দ্বিখণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা。 পরে লাশটি নিখোঁজ মারিয়ামিমের বলে শনাক্ত করা হয়。 খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়。
একটি ১৪ বছরের কিশোরীকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ দুই খণ্ড করার এই দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন স্থানীয়রা。
তদন্তে নেমেছে পুলিশ: ওসির বক্তব্য
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ。
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান:
"জার্মিতা চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান থেকে মারিয়ামিম নামের ওই ছাত্রীর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করেছে。 অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, দ্রুত বিচারের দাবি
মারিয়ামিমের এই মর্মান্তিক পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এলাকায় এখন বইছে শোকের হাওয়া, সেই সাথে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এই জঘন্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক এবং কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়。
ব্লগার মন্তব্য: একটি ফুল ফুটবার আগেই তা এভাবে ঝরে যাওয়া, কিংবা বলা ভালো ছিঁড়ে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মারিয়ামিমের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ হবার নয়। আমরা আশা করি, প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার তদন্ত করবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাবে। আমাদের সমাজ যেন আর কোনো মারিয়ামিমের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে, সেই দাবি রইল।

Leave a Reply